জামালপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালটি জেলা পর্যায়ে এক বৃহৎ সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এই হাসপাতালে সেবা দিতে এসে কতিপয় ডাক্তার, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বণিক হয়ে উঠেছেন। ক্রয় বাণিজ্য ( এমএসআর) নিয়োগ বাণিজ্য ও সনদ বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন। সেইসব চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের দুই একজনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও তারা ঘুরেফিরে স্বপদে বহাল থাকছে। সাবেক প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক আবু হান্নান তাদের একজন।
গত ৫ অগাস্টের পর সারাদেশের ন্যায় হাসপাতালের কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্টদের দুসর, প্রধান সহকারী হান্নানকে জামালপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে সরিষাবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু, তারপরেও সে গোপনে গোপনে জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এবং জামালপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কাজ করছে। এবং সে মন্ত্রাণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে লিয়াজু করে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের স্বপদে ফিরে আসার পায়তারা করছে, বলে শোনা যাচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের সূত্রে জানা যায়, হান্নান জামালপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চাকরিরত অবস্থায়, ২০১০ থেকে ২৪ পর্যন্ত শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি, পৌরসভার মেয়র ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দের সম্পৃক্ততায় হাসপাতালকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল। একই হাসপাতালে একটানা ৩০ বছর রাজত্ব করাই সে হয়ে উঠেছিল অঘোষিত ডন। লোক নিয়োগ, ঠিকাদার নিয়োগ, ক্রয় ( এমআরএস) ও বদলি এবং সনদ বাণিজ্যের মাধ্যমে সে কামিয়েছে কোটি কোটি টাকা। তা দিয়ে সে গড়ে তুলেছে জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয় এর পিছনে ইকবালপুর মসজিদ রোডের সাথে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের দ্বিতল বাড়ি, আমিনা জেনারেল হাসপাতালের পাশে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের বাড়ির জমি ও স্ত্রী
শাহানাজ পারভীন নামে কয় করেছে ঢাকার উত্তরায় দুইটি ফ্ল্যাট। বর্তমানে হাত দিয়েছে জামালপুর শহরের ইকবালপুর স্কুলের সম্মুখে আশরাফিয়া মসজিদের গলিতে ১০ তলা বিশিষ্ট বাড়ির কাজে। এছাড়াও অস্থাবর সম্পত্তি তো আছেই।
তার ব্যাপারে জামালপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের দুর্নীতিবাজ হান্নান বিরোধী কর্মচারীরা বলেন, জামালপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল হান্নানের জন্য মধুর হাঁড়ি। কারণ এই হাসপাতাল দিয়ে হান্নান গড়ে তুলেছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। তাছাড়া তার সহদুর্নীতিবাজদের অনেকেই এখনো এই হাসপাতালেই আছে। তাই, সে বাবে বারে এখানে আসতে চায়।
সে যদি কোনো রকম বাঁকা পথে বা লিয়াজু করে আবার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আসে তাহলে তার বিরুদ্ধে আবারও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলা হবে, বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।