নিজস্ব সংবাদদাতা:
পাহাড়তলীতে মাদক সম্রাট আলমগীরের দৌরাত্ম্য: সচেতন নাগরিক যুবদল নেতা আনোয়ারের ওপর ভয়াবহ হামলা,আতঙ্কে এলাকাবাসী!
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার পাশে রেললাইন এলাকা যেন এখন মাদকের এক আতঙ্কজনক সাম্রাজ্য।প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার মাদক লেনদেনে জর্জরিত এই এলাকায় ভয়াল রূপ নিয়েছে মাদক সিন্ডিকেট।সম্প্রতি মাদকবিরোধী উদ্যোগ নেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার সচেতন নাগরিক আনোয়ার হোসেন ও তার দুই সহযোগীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংস হামলা চালিয়েছে মাদক সম্রাট আলমগীর ও তার সহযোগীরা। ঘটনাটি প্রকাশের পর গোটা এলাকায় নেমে এসেছে আতঙ্কের ছায়া।

বামে-মাদক সম্রাট আলমগীর ডানে-আহত আনোয়ার হোসেন
আহত আনোয়ার হোসেন ও তার তার সহযোগীদের গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।চিকিৎসকরা জানান,আনোয়ারের মুখে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে,মাড়িতে মারাত্মক যখম হয়েছে,দুটো দাত পড়ে গেছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং সকলকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
“প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে”—অভিযোগ ভুক্তভোগী আনোয়ারের
আহত ব্যক্তি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আলমগীর,রেজাউল করিম,আমিন,টাংকি সোহেল, আরমান, নুরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ, মুন্নী ও পারভীন আক্তারসহ আরও কয়েকজনকে এলাকায় মাদক বিক্রি না করার জন্য নিষেধ করে আসছিলেন।
“এই নিষেধের জের ধরেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার ওপর হামলা চালায় এবং প্রাণনাশের চেষ্টা করে,”—অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, বারবার অভিযোগ করেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি।
মাদক সিন্ডিকেটের ভয়াল দখলে পাহাড়তলী থানার পাশ্ববর্তী রেললাইন এলাকা-
স্থানীয় সচেতনদের অভিযোগ, পুরো পাহাড়তলী রেললাইন এখন মাদক সিন্ডিকেটের দখলে। প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মাদক বিক্রি হয় এখানে। যুব সমাজ ধ্বংসের পথে,অভিভাবকরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী বলেন,
“থানার পাশেই মাদকের হাট বসে। পুলিশ জানে,দেখে, তবুও নীরব। মাঝে মাঝে নামমাত্র অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে ধরেই দায় শেষ।”
স্থানীয়দের অভিযোগ আরও ভয়াবহ—প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিয়মিত মাসোহারা পান বলেই গডফাদার আলমগীররা ধরা পড়ে না।“মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা মাঝে মাঝে এলাকায় ঘোরেন,কিন্তু কাউকে গ্রেপ্তার করতে দেখা যায় না।
প্রশাসনের দায় এড়ানো নয়-
স্থানীয় সূত্র জানায়, আলমগীর বহুদিন ধরেই একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।সে নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেয় এবং অনেক স্হানীয় যুবদলের নেতৃবৃন্দের সাথে তার ছবির ও দেখা মেলে।
পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন,
“এ ঘটনায় বাদীর পক্ষ থেকে ১০ জনকে আসামি এবং ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।আসামিদের গ্রেফতারসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আতঙ্কে জনজীবন:
এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কিত।কেউ মুখ খুলতে ভয় পায়,কারণ প্রতিবাদ করলেই হামলা বা হয়রানির শিকার হতে হয়।অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন, রাতে ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকে।এই মাদক কারবারিদের হাত থেকে মুক্তি পেতে চান এলাকাবাসী।