বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
ময়মনসিংহ বিসিকে নাইটগার্ড কয়েল ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকান্ড, অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধের আহবান সচেতন সমাজের তারেক রহমানের সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের যোগদান ময়মনসিংহ -৮ আসনে প্রতীক বরাদ্দ পেলেন ৪ প্রার্থী দেশে ফিরেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বললেন তারেক রহমান রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার কোটি টাকা বাড়াল সরকার জুলাইয়ে চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় ২০ জানুয়ারি তারেক রহমানের ৩ দিনের কর্মসূচি জানালেন সালাহউদ্দিন আহমদ শরিকদের আরও ৮ আসন ছেড়ে দিল বিএনপি স্বর্ণের দামে সর্বোচ্চ রেকর্ড

ঋণের দায়ে চার মৃত্যু, সেই ঋণ করেই ১২০০ মানুষকে খাওয়াল পরিবার

অনলাইন ডেক্স
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬৯ সময়

রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিকড় গ্রাম থেকে গত ১৫ আগস্ট মিনারুল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। যেখানে লেখা ছিল— ‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।’

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন মিনারুল। উদ্ধার হওয়া চিরকুটেও লেখা ছিল তেমন কথা। যে ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করেছেন মিনারুল, সেই ঋণ করে মিনারুল ও তার স্ত্রী-সন্তানদের জন্য চল্লিশার আয়োজন করেছেন মিনারুলের বাবা রুস্তম আলী।

লাখ টাকা ধার করে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এমন আয়োজন করেন তিনি। চল্লিশা অনুষ্ঠানে খাওয়ানো হয়েছে প্রায় ১২০০ মানুষকে।

শনিবার সরেজমিন বামনশিকড় গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভ্যানে চড়ে দূরের গ্রাম থেকে আত্মীয় স্বজনেরা আসছেন। উপস্থিত ছিল গ্রামের মানুষও। রুস্তম আলীর বাড়ির সামনে ও পেছনে দুটি প্যান্ডেল করা হয়েছে। প্যান্ডেলে বসে খাচ্ছেন সবাই। ভাতের সঙ্গে ছিল ডাল ও মুড়িঘণ্ট। রুস্তম আলী ঘুরে ঘুরে সবকিছু দেখছিলেন। এর এক ফাঁকে কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘‘আশপাশের মানুষজন বলছিল, চারজন মরার কারণে বাড়ি ভারি ভারি লাগছে। ছোট বাচ্চারা ভয় পাচ্ছিল। অনুষ্ঠানটা করলাম যাতে ভয় ভাঙে, বাড়ি যেন পাতলা হয়। এ কারণে দুপুরে দোয়া হয়েছে। তারপর খাওয়া-দাওয়া। প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হলো। আত্মীয় স্বজন ও সমাজের মিলিয়ে ১২০০ মানুষের আয়োজন করা হয়েছে।’’

টাকা জোগাড় হলো কীভাবে জানতে চাইলে রুস্তম আলী বললেন, ‘‘সবই ধারদেনা। আমার তো জমানো টাকা নাই।’ শোধ করবেন কীভাবে, এ প্রশ্নে বলেন, ‘‘১৫-১৬ কাঠা জমি আছে। এক কাঠা বেচব, বেচে ধার শোধ করব। এছাড়া তো আর কোনো উপায় নেই।’’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মুর্শেদ বলেন, ‘‘ইসলামের দৃষ্টিতে এটা নাই। কিন্তু, কেউ মারা গেলে এটা করতে হয়। এটা আমাদের এলাকার একটা প্রথা।’’

আমাদের সঙ্গে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
themesba-lates1749691102